১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:২৯ শুক্রবার
শিরোনামঃ
নিরব-স্পর্শিয়ার সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‌`জল কিরণ বাকেরগঞ্জে অস্ত্র মাদক জালটাকা সহ একাধিক মামলার আসামি কে বাচাতে অপপ্রচার, বিব্রত উপজেলা যুবদল ও স্থানীয়রা নওগাঁর রাণীনগরের খেটে-খাওয়া নিম্ম আয়ের মানুষদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে টিসিবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক পাচ্ছেন চেয়ারম্যান মঞ্জুর মোরশেদ লালমোহন তজুমদ্দিন এ শান্তির রূপ দিয়েছেন এমপি শাওন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বালাগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা আজ এস আর মাল্টিমিডিয়া’র ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ষ্টার এ্যাওয়ার্ড ২০২১ বাকেরগঞ্জ মহাসড়কে অবৈধ দোকান সরাতে পারছে না প্রশাসন, চাঁদা নেয় প্রভাবশালীরা নওগাঁর বদলগাছীতে সার ডিলার এবং কৃষি অফিসের কারসাজিতে কৃষক দিশেহারা সিলেটে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব আন্তর্জাতিক সেমিনারে দুবাই যাচ্ছেন ডা. এম মোকতার হোসেন ও ডা. ইব্রাহিম মাসুম বিল্লাহ

মহেশখালীতে সন্ত্রাসীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষক কে মধ্যেযুগীয় কায়দায় কুপিয়ে হত্যা ও স্ত্রীকে জখম, গ্রেপ্তার ৫

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, আগস্ট ২৬, ২০২২,
  • 22 Time View

মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটায় অবস্থিত তাজিযাকাটা সুমাইয়া (রাঃ) বালিকা মাদরাসার ক্যাম্পাসে ঢুকে

দিনদুপুরে সন্ত্রাসীরা স্ত্রীর সামনে শিক্ষক মৌলভী জিয়াউর রহমানকে প্রতিপক্ষের লোকজন মধ্যেযুগীয় কায়দায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যাকরে স্ত্রীকে জখম।

ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়া কাটা গ্রামে অবস্থিত সুমাইয়া(রাঃ)বালিকা মাদরাসার ক্যাম্পাসে।

স্থানীয় সাহেব মিয়ার পুত্র মাওলানা জিয়াউর রহমান ২৫ আগষ্ট সকালে তাজিযাকাটা সুমাইয়া(রাঃ)বালিকা মাদরাসার ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিল।

এই সংবাদের ভিত্তিতে পূর্বের পরিকল্পনা মতে তাদের প্রতিপক্ষ মনছুর আলীর পুত্র শরীফ উদ্দিন প্রঃ শরফত মৃত হাজী করিম বকসুর পুত্র আনছারুল করিম, মহি উদ্দিন প্ৰঃ দানু,মৃত হামিদ বকসুর পুত্র কোরবান আলী প্রঃ কুরবাইন্যা,মোস্তাক আহাম্মদ মোত্তাইক্যা,এবাদুল্লাহ সহ আরো ৮/১০জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দুপুর সাড়ে ১২টার সময় মাওলানা জিয়াউর রহমানকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘেরাও করে সমগ্র মাদরাসা ক্যাম্পাসে বন্দুক উচিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে।

মাদরসার পাঠদান কালে শিক্ষক ও ছাত্রীদেরকে ক্লাস রুম,ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দেয়।

এ সময় মৌলভী জিয়াউর রহমান প্রাণের ভয়ে মাদরাসার একটি কক্ষে রুমের ভিতরে লক লাগিয়ে অবস্থান করে নিজে বাচানোঁর আকুতি জানিয়ে চিৎকার করছিল।

তখন এবাদুল্লাহ দরজায় লাথি দিয়ে মাওলানা জিয়াউর রহমানকে রুম থেকে গলাঘরে টেনে হিছড়ে বাহির করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাথায় ৭টি কুপ দেয়।

তখন মাদরাসা প্রধান গেইট ভিতর দিক থেকে আটকে রাখে ঘাতকরা। মাটিতে লুডিয়ে পড়লে সংবাদ পেয়ে মাওলানা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী রহিমা বেগম( ৪৫) দ্রুত স্বামী উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসলে মাদরাসা গেইট এর বাহিরে হামলাকারী পুরুষ সদস্যর স্ত্রী ও কন্যারা রহিমাকে সড়কের উপর কুপিয়ে ও ছুরিকাগত করে পালিয়ে যায়।

মাদরাসার ভিতরে হামলা কারীরা উচু দেওয়ালে পূর্ব থেকে পরিকল্পনায় রাখা মই দিয়ে উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসার গেইট এর ভিতরে প্রবেশ করে দ্রুত সময়ে জিয়াউর রহমান ও রহিমা বেগমকে মহেশখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাওলানা জিয়াউর রহমানকে মৃত ঘোষনা করে।

স্ত্রী রহিমা বেগম কে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার করে।

শিক্ষক মৌলভী জিয়াউর রহমান মধ্যেযুগীয় কায়দায় কুপিয়ে হত্যা ও স্ত্রীকে জখম করার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

মহেশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পনব চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

পরে পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্ধেহে ৫ জন কে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন-

তাসমিন আক্তার (৩৫), স্বামী; মনছুর আলী, ছমিরা আক্তার(২৩), পিতা; মনছুর আলী ময়না আক্তার(২৫), স্বামী; মৃত আব্দুর রশিদ,নুরুল আলম(৫০), পিতা; মৃত আব্দুল জাব্বার,মুসলিম উদ্দিন(২৬), পিতা; মোহাম্মদ নুরুল হক সকলেই তাজিয়া কাটা, ০৩ নং ওয়ার্ড, কুতুবজোমের বাসিন্দা।

রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শিক্ষক মাওলানা জিয়াউর রহমান হত্যা
কান্ডের নেপথ্য কি?

কুতুবজোমের ৩নং ওযার্ড় তাজিয়াকাটা গ্রাম একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টার পর,১৯৯১সালের পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদীয়া মাদরাসা নামে একটি এবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্টা করেন তাজিয়াকাটা গ্রামের মরহুম সাহেব মিয়ার পুত্র মাওলানা জিয়াউর রহমান,এটি বেশ কয়েক বছর জরাঝির্ণ অবস্থায় ছিল।

পরবর্তীতে কক্সবাজার ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জাফর উল্লাহ নুরী মোহাম্ম- দীয়া মাদরাসার জমি ও স্থিত টিনশেড এর জায়গায় তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (রাঃ) বালিকা দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানা স্থাপন করে।

সে মাদরাসায় মাওলানা জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রহিমা বেগম শিক্ষকতা করেন।

দাখিল ক্লাসের কিছু শিক্ষক নতুন ভাবে এমপিও ভূক্ত হলে নতুন কমিটি দাবীকৃত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে অধ্যক্ষ মাওলানা জাফর উল্লাহ নুরী
জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রীকে শিক্ষকতার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়।

তখন থেকে মাদরাসা অধ্যক্ষ ও কমিটির সাথে জিয়াউর রহমানের মাদরাসার জমি সংক্রান্ত
একটি চরম বিরোধ তৈরী হয়।

মোহাম্মদী মাদরাসার জমি ও টিনশেড এর জন্য মাওলানা জিযাউর রহমানকে মাসিক ৫হাজার টাকা করে ভাড়া প্রদান করে আসছিল কমিটি।

বিগত কয়েক মাস থেকে তাকে ভাড়া পরিশোধ করেনি কমিটি।

ভাড়ার টাকা শিক্ষকদের বেতন থেকে কর্তন করে প্রদান করার কিছু শিক্ষক জিয়াউর রহমানের প্রতি চরম অসন্তোষ ছিল।

মরহুম সাহেব মিয়ার ৩স্ত্রীর ১৪ছেলে সন্তান ও ৮ মেয়ে আছে। তাদের মধ্যে প্রায় শিক্ষিত।

সুমাইয়া (রাঃ) বালিকা মাদরাসায় চাকুরী বঞ্চিত হওয়া বেশ কিছু শিক্ষক মিলে মাওলানা জিয়াউর রহমানের ভাইপো মাওলানা নছর উল্লাহ একটি নতুন ভাবে দারুল হেদায়া নূরানী তালিমুল কোরআন মাদরাসা ওহেফজ খানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে ফলে সুমাইয়া
(রাঃ) বালিকা মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থী কমতে থাকে ফলে সুমাইয়া বালিকা মাদরাসা কমিটির পক্ষের লোক জন ক্ষুব্ধ হয়।

নিরবে নিরবে চরম আকার ধারণ করে,গতবছর দারুল হেদায়া নুরানী মাদরাসার বার্ষিক সভার টাকা উত্তোলন ও নিয়ে স্থানীয় লালুর বর পক্ষের মহিউদ্দিনের সাথ নূরানী মাদরাসার প্রতিষ্টাতা মাওলানা নছর উল্লাহ,র মধ্যে বিরোধ তৈরী হলে মাওলানা জিয়াউর রহমান ভাইপো নছর উল্লাহ,র পক্ষ নেয়।

এটি কে কেন্দ্র করে বিগত ৩মাস পূর্বে জিয়াউর রহমান পক্ষের লোকজন মহিউদ্দিন পক্ষের শেফায়াত উল্লাহ কে কাটারক্তাক্ত করে।

এঘটনায় জিয়াউর রহমানকে প্রধান আসামী করে ১১জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থাসায় মামলা হয়।

এ মামলায জিয়াউর রহমান ছাড়া সকলে জেলকেট জামিনে মুক্ত হয়।

এ ঘটনায় জিয়াউর রহমান পক্ষে ৬টি মহিশ লুটপাট করে ও বাড়ী ঘরে হামলা চালায়।

থানায় জিয়াউর রহমান পক্ষের ৩টি মামলা রুজু হলেও একজন আসামীকে গ্রেফতার করে নি পুলিশ।

একারণে লালুর বর পক্ষের লোকজন অতি উৎসাহিত ভাবে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে দাবী করেন নিহত জিয়াউর রহমানের পরিবার।

মহেশখালী থানা পুলিশের অসহযোগিতা, স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ কামালের উদাসিনতা, সুমাইয়া (রাঃ) বালিকা মাদরাসা কমিটির নিস্ক্রিয়তা, শিক্ষকগণের চরম পক্ষপাত অবস্থানের কারণে দিন দুপুরে এ হত্যা কান্ড সংঘটিত হয় বলে মহেশখালী থানার ওসির নিকট নিহত মাওলানা জিয়াউর রহমানের পরিবার মৌখিক অভিযোগ তুলে আহাজারি করেন।

পর একটি এবতেদায়ী মকমিটির দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল।

এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় লালুর বাপের গোষ্ঠীর আনচার, এবাদুল্লাহ, শরফাত উল্লাহ,মোস্তাক,মহি উদ্দিন এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাজিয়াকাটা সুমাইয়া(রা)বালিকা মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এই হত্যা কান্ড ঘটায়।

ঘটনার পরপরই মাওলানা জিয়াউর রহমান পক্ষের লোক জন আসামী পক্ষের লোকজনের বাড়িতে লুটপাট চালায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন-কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবুতাহের ফারুকি।

এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার ওসি প্রনব চৌধুরী জানান-

ঘটনার পর পর অভিযান চালিয়ে ৫জন কে
আটক করা হযেছে।

অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের কে
আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category

Bangladesh-It-Host